ইত্তেফাক

Saturday, May 30, 2015

ফাঁসির আগে রেহানার হৃদয় কাঁপানো চিঠি


রেহানা জাব্বারিকে ধর্ষণ চেষ্টাকারীর বুকে ছুরি চালিয়ে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয় ইরানের সুপ্রিম কোর্ট। ২৫ অক্টোবর তার মত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মৃত্যুর আগে মাকে শেষ চিঠি লিখে গেছেন রেহানা। হৃদয় নিংড়ানো সেই চিঠিতে মাকে শোকগ্রস্ত হতে বার বার বারণ করেছেন রেহানা। মৃত্যুকে তিনি অভিহিত করেছেন নিয়তির বিধান হিসেবে, তবে সে জন্য তিলমাত্র অনুতাপ করেননি। বরং ফাঁসির পর তার দেহাংশ দান করার অনুরোধ জানিয়েছেন জন্মদাত্রীকে। রেহানার সেই মর্মস্পর্শী চিঠি গণমাধ্যমের হাতে তুলে দিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন ও শান্তিকামী গোষ্ঠীর সদস্যরা।

মাকে লেখা রেহানা জাব্বারির শেষ চিঠি:
প্রিয় শোলেহ,
আজ জানতে পারলাম এবার আমার ‘কিসাস’ (ইরানের আইন ব্যবস্থায় কর্মফল বিষয়ক বিধি)-এর সম্মুখীন হওয়ার সময় হয়েছে। জীবনের শেষ পাতায় যে পৌঁছে গিয়েছি, তা তুমি নিজের মুখে আমায় জানাওনি ভেবে খারাপ লাগছে। তোমার কি মনে হয়নি যে এটা আমার আগেই জানা উচিত ছিল? তুমি দুঃখে ভেঙে পড়েছ জেনে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছি। ফাঁসির আদেশ শোনার পর তোমার আর বাবার হাতে চুমু খেতে দাওনি কেন আমায়?
দুনিয়া আমায় ১৯ বছর বাঁচতে দিয়েছিল। কেননা সেই অভিশপ্ত রাতে আমারই তো মরে যাওয়া উচিত ছিল, তাই না? আমার মৃতদেহ ছুড়ে ফেলার কথা ছিল শহরের কোনো অজ্ঞাত কোণে। কয়েকদিন পর মর্গে যা শনাক্ত করার কথা ছিল তোমার। সঙ্গে এটাও জানতে পারতে যে হত্যার আগে আমাকে ধর্ষণও করা হয়েছিল। হত্যাকারীরা অবশ্যই ধরা পড়ত না, কারণ আমাদের না আছে অর্থ, না ক্ষমতা। তারপর বাকি জীবনটা সীমাহীন শোক ও অসহ্য লজ্জায় কাটিয়ে কয়েক বছর পর তোমারও মৃত্যু হত। এটাই যে হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সে রাতের আকস্মিক আঘাত সব কিছু ওলোটপালট করে দিল। শহরের কোনো গলি নয়, আমার শরীরটা প্রথমে ছুড়ে ফেলা হল এভিন জেলের নিঃসঙ্গ কুঠুরিতে, আর সেখান থেকে কবরের মতো এই শাহর-এ রায় কারাগারের সেলে। কিন্তু এ নিয়ে অনুযোগ কর না মা, এটাই নিয়তির বিধান। আর তুমি তো জানো যে মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যায় না।
মা, তুমিই তো শিখিয়েছ অভিজ্ঞতা লাভ ও শিক্ষা পাওয়ার জন্যই আমাদের জন্ম। তুমি বলেছিলে, প্রত্যেক জন্মে আমাদের কাঁধে এক বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া থাকে। মাঝে মাঝে লড়াই করতে হয়, সে শিক্ষা তো তোমার থেকেই পেয়েছি। সেই গল্পটা মনে পড়ছে, চাবুকের ঝাপ্টা সহ্য করতে করতে একবার প্রতিবাদ জানানোর ফলে আরও নির্মমতার শিকার হয়েছিল এক ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। কিন্তু প্রতিবাদ তো সে করেছিল! আমি শিখেছি, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে অধ্যবসায় প্রয়োজন। তার জন্য যদি মৃত্যুও আসে, তাকেই মেনে নিতে হয়।
স্কুলে যাওয়ার সময় তুমি শিখিয়েছিলে, নালিশ ও ঝগড়াঝাটির মাঝেও যেন নিজের নারীসত্তাকে বিসর্জন না দিই। তোমার মনে আছে মা, কত যত্ন করেই না মেয়েদের খুঁটিনাটি সহবত শিখিয়েছিলে আমাদের? কিন্তু তুমি ভুল জানতে মা। এই ঘটনার সময় আমার সে সব তালিম একেবারেই কাজে লাগেনি। আদালতে আমায় এক ঠাণ্ডা মাথার খুনি হিসেবে পেশ করা হয়। কিন্তু আমি চোখের জল ফেলিনি। ভিক্ষাও করিনি। আমি কাঁদিনি কারণ আইনের প্রতি আমার অটুট আস্থা ছিল।
কিন্তু বিচারে বলা হল, খুনের অভিযোগের মুখেও নাকি আমি নিরুত্তাপ। আচ্ছা মা, আমি তো কোনো দিন একটা মশাও মারিনি। আরশোলাদের চটিপেটা না করে শুঁড় ধরে জানলার বাইরে ফেলে দিয়েছি। সেই আমিই নাকি মাথা খাটিয়ে মানুষ খুন করেছি! উল্টে ছোটবেলার ওই কথাগুলো শুনে বিচারপতি বললেন, আমি নাকি মনে মনে পুরুষালি। তিনি একবার চেয়েও দেখলেন না, ঘটনার সময় আমার হাতের লম্বা নখের ওপর কী সুন্দর নেল পালিশের জেল্লা ছিল। হাতের তালু কত নরম তুলতুলে ছিল।

সেই বিচারকের হাত থেকে সুবিচার পাওয়ার আশা অতি বড় আশাবাদীও করতে পারে কি? তাই তো নারীত্বের পুরস্কার হিসেবে মাথা মুড়িয়ে ১১ দিনের নির্জনবাসের হুকুম দেওয়া হল। দেখেছ মা, তোমার ছোট্ট রেহানা এই কদিনেই কতটা বড় হয়ে গিয়েছে?
এবার আমার অন্তিম ইচ্ছেটা বলি শোনো। কেঁদো না মা, এখন শোকের সময় নয়। ওরা আমায় ফাঁসি দেওয়ার পর আমার চোখ, কিডনি, হৃদযন্ত্র, হাড় আর যা যা কিছু দরকার যেন আর কারো জীবন রক্ষা করতে কাজে লাগানো হয়। তবে যিনিই এসব পাবেন, কখনোই যেন আমার নাম না জানেন। আমি চাই না এর জন্য আমার সমাধিতে কেউ ফুলের তোড়া রেখে আসুক। এমনকি তুমিও নয়। আমি চাই না আমার কবরের সামনে বসে কালো পোশাক পরে কান্নায় ভেঙে পড় তুমি। বরং আমার দুঃখের দিনগুলো সব হাওয়ায় ভাসিয়ে দিও।
এই পৃথিবী আমাদের ভালোবাসেনি, মা। চায়নি আমি সুখী হই। এবার মৃত্যুর আলিঙ্গনে তার পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। তবে সৃষ্টিকর্তার এজলাসে সুবিচার আমি পাবই। সেখানে দাঁড়িয়ে আমি অভিযোগের আঙুল তুলব সেই সমস্ত পুলিশ অফিসারের দিকে, বিচারকদের দিকে, আইনজীবীদের দিকে, আর তাদের দিকে যারা আমার অধিকার বুটের নিচে পিষে দিয়েছে, বিচারের নামে মিথ্যা ও অজ্ঞানতার কুয়াশায় সত্যকে আড়াল করেছে। একবারও বোঝার চেষ্টা করেনি, চোখের সামনে যা দেখা যায় সেটাই সর্বদা সত্যি নয়।
আমার নরম মনের শোলেহ, মনে রেখো সেই দুনিয়ায় তুমি আর আমি থাকব অভিযোগকারীর আসনে। আর ওরা দাঁড়াবে আসামির কাঠগড়ায়। দেখিই না, সৃষ্টিকর্তা কী চান! তবে একটাই আর্জি, মৃত্যুর হাত ধরে দীর্ঘ যাত্রা শুরুর প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত তোমায় জড়িয়ে থাকতে চাই, মাগো! তোমায় যে খুব খু-উ-ব ভালোবাসি।
সূত্র : ডেইলি মেইল/রাইজিংবিডি 

Thursday, May 28, 2015

নারীরা জীবনে কত বার প্রেমে পড়তে পারে?

ভালোবাসা পেতে নাকি মানুষের মন কেমন কেমন করে আর যান্ত্রিক এই পৃখিবীতে বিপরীত লিঙ্গের সান্নিধ্য মানুষকে একটু হলেও আরাম দেয় তবে একজন মানুষ জীবনে কতবার ভালোবাসা মানে প্রকৃত ভালোবাসা পায় তা নিয়ে বিতর্ক আছে তা আবার নারী পুরুষ ভেদেও ভিন্ন হয়

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটেনের প্রায় অর্ধেক নারী তাদের জীবনে স্রেফ একবারই নাকি সত্যিকারের ভালোবাসা পেয়েছেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি পুরুষ জানিয়েছেন, তারা তাদের জীবনে জন সঙ্গীর ভালোবাসা পেয়েছেন। নিউ ইয়র্কের হেজেন ড্যাজ আইসক্রীম প্রস্তুতকারক কোম্পানি হাজার মানুষের ওপর একটি জরিপ চালায়। আর এতেই এই তথ্য বেরিয়ে আসে।

গবেষণায় দেখা যায়, ৪৭ শতাংশ নারী এবং ৩৯ শতাংশ পুরুষ তাদের জীবনে মাত্র একবার সত্যিকারের প্রেমের সন্ধান পেয়েছেন। পুরুষদের ৫১ শতাংশ থেকে জন আলাদা আলাদা ব্যক্তির প্রেমে পড়েছেন। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ

গবেষণায আরো উঠে এসেছে যে, নারী-পুরুষ উভয়েরই তিন-চতুর্থাংশ সত্যিকারের ভালোবাসায় বিশ্বাস করেন। আর মাত্র শতাংশ ব্যক্তি মনে করেন, প্রেম বলে আসলে কিছু নেই। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের জনের জন মনে করেন প্রেমিক-প্রেমিকার একে অন্যের পরিবারের সাথে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা সত্যিকারের প্রেম।

এদিকে জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র শতাংশ ব্যক্তি মনে করেন, যৌন সম্পর্কে আবদ্ধ হলেই কেবল প্রেম পূর্ণতা পায়।

মনোরোগ বিশারদ লুসি বেরাসফোর্ড বিষয়ে বলেন, এটা দেখতে ভালো লাগে যে সত্যিকারের ভালোবাসা এখনো আছে এবং এটা শুধু শারীরিক আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না। তবে এটা খুবই লজ্জাকর যে আমাদের জীবনের ব্যস্ততা আমাদের ভালোবাসার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে

Wednesday, May 27, 2015

প্রভাকে নিয়ে নতুন করে একি বললেন রাজীব! জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মাদ আশরাফুলকেও দায়ি করেছেন।

প্রভার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ হয়ে গেছে অনেক আগেই। দীর্ঘদিন এই বিষয়ে একদম চুপ ছিলেন প্রভার একসময়ের আলোচিত প্রেমিক রাজীব। প্রভার দ্বিতীয় বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে মুখ খুলতে শুরু করেছেন তিনি। ফাটাচ্ছেন একেরপর এক বোমা। সম্প্রতি তিনি doinik-iut.com ব্লগে তার এবং প্রভার সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে লিখেছেন বেশ চমকপ্রদ একটি লেখা। সেখানে রাজীব প্রভার সাথে তার সম্পর্কের এমন সব ব্যাপার নিয়ে কথা বলেছেন, যা জানলে অবাক হতে হয়। সেখানে প্রভার সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারে যেমন খোলাখুলি লিখেছেন, তেমনি লিখেছেন কারা প্রভাকে পাওয়ার জন্য ঘুরঘুর করত। প্রভার পিছনে ঘুরঘুর করার জন্য তিনি জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মাদ আশরাফুলকেও দায়ি করেছেন।

পড়ে নিন রাজীবের সেই বোমা ফাটানো লেখাটিঃ

প্রেম। এ এক অদ্ভূত মায়াজাল। যে এই জালে জড়িয়েছে, তার যেমন আফসোসের শেষ নেই, তেমনি যে জড়ায়নি, তারও আফসোসের শেষ নেই। স্কুল বেলায় রসায়নে জারণ বিজারণ পড়েছিলাম। জারণ মানে ছারণ, আর বিজারণ হইলো গ্রহণ। প্রেমটাও ঠিক তেমনি। এখানে জারণ বিজারণের মত সবকিছুই যুগপৎ ঘটে। কেউ ছারে, আর কেউ সেইটা ধরে। কেউ এই জারণ বিজারণ করলে লোকে লীলাখেলা বলে, কেউ বা করলে বলে পাপ।আমিও এই মায়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারি নি। জারণ-বিজারণ খেলায় মেতেছিলাম এক রমণীর সাথে। হ্যাঁ। তার নাম প্রভা, সাদিয়া জাহান প্রভা। তার সম্পর্কে আশা করি আর কোন ভূমিকা না দিলেও চলবে। আপনারা সবাই তাকে নিয়ে নিজেদের মত করে ভূমিকা এতক্ষণে বানিয়ে নিয়েছেন, তা আমি জানি। কিন্তু তাকে যে আমি কতটা ভালোবাসি, তা আপনারা জানেন না। তা জানার ক্ষমতা আপনাদের নেই। আপনারা আমাদের পবিত্র প্রেমকে কালিমালিপ্ত করেছেন। আপনাদের আমি ধিক্কার জানাই।


আজ বড় দুঃখ নিয়ে এই লেখাটা লেখতে বসলাম। অনেক জায়গায়ই এই লেখাটা দিতে চেয়েছি, কিন্তু কেউ নিতে চায় না। সবাই বলে আপনি নষ্ট লোক, আপনি প্রভার এক্স। অবশেষে দৈনিক আইইউটি আমার দুঃখটা বুঝতে পেরেছে, এর জন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ!!যা বলছিলাম। প্রভার সাথে আমার জারণ বিজারণটা হয়েছিল একদম সোডিয়াম এর সাথে ক্লোরিনের মত! প্রভা ইলেক্ট্রন ছাড়ার আগেই আমি ধরার জন্য ঘুরঘুর করছিলাম! ছাড়ামাত্রই ধরে ফেলেছিলাম! তাইতো আমাদের বন্ধন হয়েছিল পুরাই আয়নিক। কিন্তু আমাদের এই বন্ধন কারোই সহ্য হয় নি। কারণ প্রভার মত লক্ষী, সুন্দরী, স্বামীর প্রতি অনুগত, মোটকথা আদর্শ একটা মেয়ের উপর অনেকেরই কুনজর পড়েছিল। মোহাম্মদ আশরাফুল থেকে শুরু করে অনেকেই তার পিছনে লাইন মারা শুরু করেছিল। তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হারামজাদা ছিল অপূর্ব। নীরব, ইমন আর শাকিব খানের ভীড়ে বাংলাদেশে যে এখনো অপূর্বর মত হিজড়া টিকে আছে, আমার জানা ছিল না। এই শালা ধ্বজভংগ অপূর্ব প্রায়ই আমার বাসার আশপাশে ঘুর ঘুর করতো। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমার অন্যতম প্রিয় হবি ভিডিও এডিটিং। আমি আর প্রভা সারাদিন ঘুরতাম, খেলতাম, ওগুলো ভিডিও করে আমি রেগুলার এডিট করে আমার কম্পিউটারে রেখে দিতাম। একদিন প্রভার সাথে খেলতে খেলতে এতই টায়ার্ড হয়ে গিয়েছিলাম যে খেলার ভিডিওগুলো এডিট করতে করতে চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙ্গে দেখি রুমের দরজা খোলা। মোবাইলে প্রায় ৫হাজারের মত মিসকল। দেখে তো আমার মাথায় হাত। কী এমন হলো? ঠিক এমন সময়েই আবার মোবাইলে ফোন এলো। হাতে নিয়ে দেখি প্রভা। ফোন ধরতেই ও ক্ষিপ্ত গলায় বললো, “রাজীব, আমি তোমার কী ক্ষতি করেছিলাম? তুমি কীভাবে আমার সাথে এমন করতে পারলে? তুমি যখন আমাকে লিসা অ্যান আর অ্যালেক্সিস টেক্সাস বলে ডাকতে, তখন আমার সত্যিই অনেক ভালো লাগতো। কিন্তু আমি ভাবতেও পারিনি রাজীব, তুমি আমাকে সত্যিই লিসা অ্যান বানিয়ে ফেলবে। আমাকে তুমি শেষ করে দিয়েছো রাজীব। I hate you.” বলেই ফোন কেটে দিল প্রভা। আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। কী করলাম আমি?? চোখ ডলতে ডলতে ফেসবুকে ঢুকলাম। দেখি প্রায় হাজার খানেক নোটিফিকেশন। সবাই শুধু ছিঃ ছিঃ লিখে রেখেছে। কী এমন হলো আজ? সবাই ছিঃ ছিঃ করছে কেন? এমন সময়ে দেখি ইনবক্সে একটি আনরিড মেসেজ। খুলে দেখি অপূর্ব পাঠিয়েছে। একটা লিঙ্ক। ক্লিক করেই তো আমার চক্ষু চড়কগাছ! হারামজাদা করসে কি? বুঝতে পারলাম, আমি যখন গভীর ঘুমে মগ্ন, তখন এই অপূর্ব হারামজাদাই আমার রুমে ঢুকে এই আকাম করসে।আমি পুরাই বিধ্বস্ত হয়ে গেলাম। এক ধাক্কায় আমার সাজানো সংসার ভেঙ্গে গেলো। আমার বড়বেলার খেলার সাথী প্রভা আমাকে ছেড়ে চলে গেলো! যাবি ভালো কথা, গিয়ে বিয়ে করলো ঐ হিজড়া অপূর্ব কে! কেমন লাগে বলুন? তাদের রংঢং দেখে আমার পিত্তি জ্বলে যায়। মুন্নী সাহার অনুষ্ঠানে দুজন হাত ধরে সেকি পিরিত! একদম যেন লাইলী-মজনু! শালার ব্যাটা, আমার লগে পাংগা লস? দাঁড়া, দেখাবো মজা। বসে বসে আমাদের খেলার সব ভিডিও দিলাম নেটে ছেড়ে! আর যায় কোথায়! বাংলাদেশে এক মুহূর্তের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে গেল প্রভা!সবার হাতে হাতে মুখে মুখে শুধু একটাই নাম! সারা দেশ যেন প্রভাবিত! সবচেয়ে মজা পেলাম অপূর্বর চেহারার দিকে তাকিয়ে! এমনিতেই বউয়ের এই কীর্তি নিয়ে তার দুঃখের শেষ নাই। তার উপর প্রভার সাথে খেলতে নামসে! আমার মত প্লেয়ারই যেখানে ব্যাট ধরার আগে বেশির ভাগ সময় আউট হয়ে যেতাম, সেখানে তোর মত হিজড়া খেলবো প্রভার লগে?? গায়ের রঙ ক্রিস গেইলের মত হইলেই তুমি ক্রিস গেইলের মত প্লেয়ার না, ঠিকাসে ভাআআআআআআ???
অবশেষে যা হওয়ার, তাই হলো! আমি তো তাও আউট হতাম, অপূর্ব খেলতে নেমেই রিটায়ার্ড হার্ট। প্রভার মত মেয়ের কি আর এইসব হিজড়া দিয়ে চলে? তাই অবধারিতভাবেই তাদের ডিভোর্স হতে বেশিদিন অপেক্ষা করা লাগলো না। আমিও অপূর্বকে ওরই আপ্লোড করা ভিডিওর লিঙ্ক পাঠাতে থাকলাম। আসতে আসতে সব কিছুই স্বাভাবিক হয়ে এলো। আমিও প্রভাকে ভুলে গেলাম।
আজ হঠাৎ করেই আবার প্রভার কথা মনে পড়ে গেলো। কারণ আজ খবরের ওয়েবসাইটে দেখলাম বেশ ফলাও করে নিউজ বেড়িয়েছে, আবারও বিয়ের পিঁড়িতে প্রভা। খবরটা শুনে ভালো লাগলো। যাক, মেয়েটা তাহলে আসলেই একটুও বদলায় নি। এখনো আগের মতই ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে। তবে তার নতুন খেলার সাথীকে দেখে কিঞ্চিৎ আশাহত হলাম। কেননা এই শালারও গায়ের রঙ ক্রিস গেইলের মত হলেও চেহারা পুরাই নিখিল বাংলাদেশ টেম্পু হেল্পার সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের গতিদানবরুবেল হোসেনের মত। এই চামচিকাই বা কতদিন খেলতে পারে, দেখার বিষয়। প্রভা দেখলাম এই চামচিকাকে নিয়ে বেশ খুশি। বাংলানিউজ কে বলেছে, নামে শান্ত, কাজেও নাকি শান্ত, চুপচাপ। আমাকে তুমি হাসালে প্রভা। তোমার মত মেয়েকে যেখানে সুনামির পক্ষেও ঠান্ডা করা সম্ভব না, সেখানে এই শান্তকে নিয়েই তোমার এত প্রশংসা? এই শান্ত গাধাটাও দেখি আবার প্রভাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। আর কিছুদিন পর যখন Brazzers, Naughty America আর Digital Playground এর ফোন পাবা, তখন দেখবো  তুমি কত শান্ত!
যাই হোক, আশা করি সুখে থাকবে। এই ইনিংসে তোমার যেন অল-আউট হওয়া না লাগে, তুমি যেন শান্ত কে নিয়ে ইনিংস ডিক্লেয়ার করতে পারো, সেই কামনাই করি। আর তোমার জন্য আমার দরজা চিরকালই খোলা থাকবে। কেননা আমার শেষ কক্ষপথে এখনো একটা ইলেক্ট্রনের অভাব রয়েই গেছে! তুমি ছাড়া আর কেউই যে তা ভরতে পারবে না। যদি কখনো আবার খেলতে ইচ্ছা করে, নির্দ্বিধায় চলে এসো। আমি এখন Samsung Galaxy S 2 বাদ দিয়ে Nokia 1100 ব্যবহার করি। তাই ভয়ের আর কোনই কারণ নেই।

 collected